পটুয়াখালীর গলাচিপায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলার অভিযোগে গলাচিপা সরকারি কলেজের পিয়ন ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মো. আনোয়ার দেওয়ানের গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় গলাচিপা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মো. মাসুম বিল্লাহ সোহাগ দেওয়ান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, গত ১২ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে তিনি, রাসেল খলিফা ও রাজিব খলিফা গলাচিপা সরকারি কলেজের সামনে দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় আনোয়ার দেওয়ান, কামাল, মিজানুর, ইব্রাহিম ও সেকান্দার দেওয়ানসহ আরও ৭/৮ জন তাদের পথরোধ করে দেশীয় অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে হামলা চালায়। এতে রাজিব খলিফার ডান হাতের হাড় ভেঙে গুরুতর জখম হয় বলে দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় পরদিন ১৩ সেপ্টেম্বর রাসেল খলিফা বাদী হয়ে আনোয়ার দেওয়ানসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮ জনকে আসামি করে গলাচিপা থানায় মামলা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সোহাগ দেওয়ান আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে তাদের সঙ্গে আনোয়ার দেওয়ান ও তার সহযোগীদের বিরোধ চলে আসছে। তাদের অভিযোগ, প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক তাদের জমি দখলের পাশাপাশি স্থানীয় আরও কয়েকজনের দলিলকৃত জমি ভোগদখল করে আসছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় মৃত মালেক মৃধা, ইউনুচ মৃধা ও রওশানা বেগমের দলিলকৃত জমিও জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। রওশানা বেগমের ভোগদখলীয় জমিতে থাকা একটি বসতঘর রাতের আঁধারে ভেঙে সেখানে অগভীর কুয়া তৈরির অভিযোগও করেন তিনি।
এ ছাড়া গলাচিপা আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পিয়ন মো. মিজানুর স্থানীয় সেচ কাজে ব্যবহৃত একটি সরকারি খাস খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ ও বৃক্ষরোপণ করেছেন বলেও অভিযোগ করেন সোহাগ দেওয়ান। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়া এবং স্থানীয় অনেক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ার দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে হামলার শিকার রাজিব খলিফা বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে গলাচিপা সরকারি কলেজের সামনে তাকে লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তার হাত ভেঙে যায়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ভুক্তভোগী পিয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তার দলিলকৃত রেকর্ডীয় জমি দখল করা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও আইনগত প্রতিকার দাবি করেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আনোয়ার দেওয়ানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে গলাচিপা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. লিয়াকত আলী বলেন, কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফোরকান কবির বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।
গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি আনোয়ার দেওয়ানকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন