পটুয়াখালীর গলাচিপায় হাম ও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব প্রকট আকার ধারণ করেছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকায় ধারণক্ষমতার তুলনায় তিনগুণ রোগীর চাপ তৈরি হয়েছে। এতে ওয়ার্ডগুলোতে দেখা দিয়েছে তীব্র ভিড়। পাশাপাশি হাম ও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের একই ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়ায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রোগী ও স্বজনরা।
গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম আক্রান্ত ৫৪ জন এবং ডেঙ্গু আক্রান্ত ১০৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন হাম আক্রান্ত ২১ জন এবং ডেঙ্গু আক্রান্ত ৯ জন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৫০ জন রোগীর ধারণক্ষমতার বিপরীতে বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ১৪৮ জন। অতিরিক্ত রোগীর চাপে সাধারণ রোগী ও সংক্রমিত রোগীদের জন্য আলাদা কক্ষ বা বেড সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক রোগীকে করিডোর ও মেঝেতে অবস্থান করেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চরবাংলা গ্রামের সালমা বেগম বলেন, চার দিন আগে তার মেয়ে সারামনি হামে আক্রান্ত হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু মেয়ের পাশের বেডেই একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি রয়েছেন। একই জায়গায় দুই ধরনের রোগী থাকায় মেয়েকে নিয়ে শঙ্কার মধ্যেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সারামনির পাশের বেডে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ডাকুয়া ইউনিয়নের বড়চত্রা গ্রামের এবাদুল মিয়া। তিনি বলেন, তিন দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তার চারপাশে হাম আক্রান্ত রোগী থাকায় উদ্বিগ্ন তিনি। কয়েকবার নার্সদের কাছে মশারি চাইলেও পাননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে চিকিৎসার প্রয়োজনেই এ অবস্থার মধ্যে হাসপাতালে থাকতে হচ্ছে বলে জানান এবাদুল।
গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ধারণক্ষমতার প্রায় তিনগুণ রোগী ভর্তি থাকায় প্রতিদিনই চাপের মধ্যে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে। হাম আক্রান্ত রোগীদের জন্য আলাদাভাবে পাঁচটি বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু অতিরিক্ত রোগীর চাপে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এরপরও হাসপাতালের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব সেবা অব্যাহত রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মন্তব্য করুন