পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের ছোট শিবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ কেটে মাছের ঘেরের পানি নিষ্কাশনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। এতে বিদ্যালয়ের মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বর্ষার পানির স্রোতে মাঠের আরও ক্ষতি হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
রোববার (২৬ জুলাই, ২০২৬ ইং) বিদ্যালয়ের মাঠ কেটে প্রায় ২০০ ফুট দীর্ঘ একটি ক্যানেল তৈরি করে পানি নিষ্কাশনের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছোট শিবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনের সামনের মাঠ কেটে পানি চলাচলের জন্য একটি ক্যানেল তৈরি করা হয়েছে। পানির প্রবল স্রোতে মাঠের মাটি ধীরে ধীরে ভেঙে যাচ্ছে। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরকাজল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট শিবা টিলা এলাকায় ওয়াপদা বেড়িবাঁধসংলগ্ন ডোবায় দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে আসছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম সবুজ জোমাদ্দার। টানা বৃষ্টিতে ঘের তলিয়ে যাওয়ার পর পানি দ্রুত নামানোর উদ্দেশ্যে বিদ্যালয়ের মাঠ কেটে ক্যানেল তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, ঘেরের উত্তর ও দক্ষিণ পাশ দিয়েও পানি নিষ্কাশনের সুযোগ ছিল। আগে ওয়াপদা বেড়িবাঁধের মাধ্যমে পানি নামানো হতো। কিন্তু এবার সেই ব্যবস্থা নষ্ট থাকায় বিদ্যালয়ের মাঠ কেটে পানি নামানো হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও জানান, ওই মাছের ঘেরে ইউপি সদস্য সবুজ জোমাদ্দার ছাড়াও স্থানীয় কয়েকজনের অংশীদারিত্ব রয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুব আলম বলেন, ঘটনার দিন তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর অনুপস্থিতিতে মাঠ কেটে পানি নিষ্কাশনের কাজ করা হয়। পরে সোমবার ক্যানেলটি পুনরায় মাটি দিয়ে ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি জানান, ঘেরে তাঁরও অংশীদারিত্ব রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম সবুজ জোমাদ্দারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চরকাজল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান মোল্লা বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে মাঠটি পুনরায় মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতার বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদকে জানানো হলে বিদ্যালয়ের মাঠ না কেটে বিকল্প উপায়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা যেত। তিনি আরও জানান, প্রায় দুই বছর আগে দুই লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে বিদ্যালয়ের মাঠে মাটি ভরাট করা হয়েছিল।
গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে সার্ভেয়ারসহ একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন